Evidence (Amendment) Act, 2022

The Evidence Act, 1872 সর্বশেষ সংশোধিত হয়ে ২০ নভেম্বর ২০২২ইং( ০৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯) তারিখে Evidence (Amendment) Act, 2022  গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

Evidence (Amendment) Act, 2022 জাতীয় সংসদে পাশ করা হয় এবং সংশোধন এই আইনটি ২০ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতিপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত দিন হতে কার্যকর হয়।

সাক্ষ্য আইনের এই সংশোধনীতে আলোচিত অনেক বিধান সংযোজন, প্রতিস্থাপন ও বাতিল করা হয়। তন্মধ্যে Evidence ও  Document এর সংজ্ঞায় পরিবর্তন ডিজিটাল সাক্ষ্যের বিধান, সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ১৫৫(৪) ধারা বিলুপ্ত অন্যতম।

Digital record, or electronic record, Digital Signature, or electronic Signature, Digital Signature Certificate, Certifying Authority ইত্যাদি অভিব্যাক্তি সমূহ (expression) সংযোজন করা হয়।

Evidence এর সংজ্ঞায় ফরেনসিক সাক্ষ্যের (blood, semen, hair,  organ, . DNA, iris impression, foot print) বিধান সংযুক্ত করা হয়।

সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় বিদ্যমান ( Admission) এর সংজ্ঞায় মৌখিক ও দালিলিক বিবৃতির পাশাপাশি ডিজিটাল রেকর্ডের বিধান সন্নিবেশ করা হয়।

২২এ ধারা: ২২এ ধারায় ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্যের প্রয়োজনীয়তা শর্তসাপেক্ষে নাকচ করা হয়।

সাক্ষ্য আইনের ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৯ ধারায় সরকারি রেজিস্ট্রার ও রেকর্ডের পাশাপাশি (Digital record) শব্দদ্বয় সংযুক্ত করা হয়।

সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারায় প্রদত্ত বিশেষজ্ঞের মতামতের বিধান প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ফরেনসিক সাক্ষ্য ও ডিজিটাল রেকর্ডের বিধান যোগ করা হয়।

৪৫ক ধারা: ফরেনসিক সাক্ষ্যের রিপোর্ট সরাসরি আদালতে পাঠানোর বিধান আনা হয় ৪৫ক ধারায়।

৪৫ক, ৬৫এ ও ৬৫বি ধারা:    ৪৭ক Digital Signature, এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত ৬৫এ ও ৬৫বি ধারা সন্নিবেশ করা হয়। ডিজিটাল রেকর্ডকে ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তুকে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিধান করা হয়।

৮৫ এ, ৮৫বি, ৮৬সি ধারা: ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত গেজেট, সম্পাদিত চুক্তি এবং ডিজিটাল রেকর্ড, ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট সম্পর্কে চূড়ান্ত অনুমানের বিধান (Shall Presumption) করা হয় (সন্নিবেশিত ৮৫এ, ৮৫বি, ৮৬সি ধারা)।

১৪৬(৩) ধারা: ১৪৬ ধারা সংশোধন করে ১৪৬ এর ৩ উপধারায় নতুন বিধান যুক্ত করে বলা হয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া ধর্ষন বা ধর্ষন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিকে জেরার সময় অতীত চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না।

১৫৫(৪) ধারায় বিদ্যমান ধর্ষন বা ধর্ষন চেষ্ঠার শিকার ব্যক্তিকে অতীত চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করার বিতর্কিত বিধান বিলুপ্ত করা হয়। কাজেই আদালতের অনুমতি ছাড়া ধর্ষণ বা ধর্ষনচেষ্টা মামলায় জোরদার সময় ভুক্তভোগীকে তার সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা অতীত যৌন আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না।

পদ্ধতিগত আইন হিসেবে সাক্ষ্য আইন আমাদের দেশে প্রচলিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধির সম্পূরক হিসেবে কাজ করে। দুই কার্যবিধিতে যেখানে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি বর্ণনা করা আছে সাক্ষ্য আইন সেখানে মামলা প্রমাণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাক্ষ্য আইনের গুরুত্ব অনেক বেশি হওয়ার কারণ হল আমাদের বিচার পদ্ধতি adversarial হওয়ার কারণে যেখানে আদালত বা বিচারক অন্ধ। তারা নিজেরা কোন মামলায় অনুসন্ধানমূলক তৎপরতা চালান না বরং বাদি বা বিবাদি বা ফরিয়াদি/আসামীর আইনজীবীদের কৌশলী বক্তব্য বা দলিলপত্র অনুসন্ধান করে কাগজে কলমে সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে inquisitorial বিচার ব্যবস্থায় বিচারক নিজে থেকে বিচার পূর্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন।

 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *